ঝিনাইদহে ভিডব্লিউবি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা
সাহিদুল এনাম পল্লব , ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ১১ নং পদ্মকার ইউনিয়নের ভিডব্লিউবি প্রকল্পের ২০২৩ জানুয়ারি হতে ২০২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উক্ত প্রকল্পের জন দুস্থ অসহায় নারী উপকারভোগীর অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরুখ আহমেদ আকাশের বিরুদ্ধে। সরকার ভিডব্লিউবি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীন দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে প্রতিমাসে তাদের ৩০ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়। এই চাউল বিতরণের সময় তাদের নিকট থেকে ২২০ টাকা সঞ্চয় হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জমা নিয়ে থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির নামে ব্যাংক একাউন্ট করে এই টাকা জমা দেয়ার কথা। এদের এই টাকা দুই বছর হলে পরবর্তীতে তাদের ফেরত দেয়ার কথা। এই টাকা উত্তোলন করে এই অসহায় দুস্থ নারীরা যেকোনো একটি প্রকল্প করতে পারে যার মাধ্যমে দিয়ে তারা স্বাবলম্বী জীবন যাপন করবে। যদি কারো টাকা ব্যাংকে না জমা হয়ে থাকে তাহলে তার টাকা বাদেই চাউল বিতরণ করবে।
কিন্তু ঝিনাইদহের পদ্মা কর ইউনিয়নে ঘটে গেল এক ব্যতিক্রম ঘটনা। বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস হতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই টাকার সিংহভাগ উপকারীদের ব্যাংকের হিসাব নাম্বারে জমা হয়নি। তাহলে এই টাকা কার পকেটে?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় যে ওই সময়ের উক্ত প্রকল্পের টাকার একটি অংশ ছিল চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের নিকট এবং আরেকটি টাকা ছিল উক্ত ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরুখ আহমেদ আকাশের নিকট । দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিওর দায়িত্ব বন্টনে দেরি হওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায় যে চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের নিকট যে টাকা ছিল তার সে নগদ এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরুখ আহমেদ আকাশের নিকট জমা দেয় । ৫ ই আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস আর ইউনিয়ন পরিষদে বসতে পারেনি। এর প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ দায়িত্ব পড়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপর।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মোতাবেক জানাযায় যে মেয়াদ পূণ্য হওয়ার পর প্রত্যেক ব্যক্তি ৫২৮০ টাকা করে পাবে। কিন্তু ১০৭ জনের মধ্যে ৪০ জন পেয়েছে মাত্র ২৫০০ করে টাকা বাকি ৬৭ জন পেয়েছে ৪৫০০ করে টাকা। তাহাতে দেখা যায় যে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৬০ টাকা ভুক্তভোগীদের কম দেয়া হয়েছে।
উক্ত টাকা প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরুখ আহমেদ আকাশ একটি প্রত্যয়ন পত্র জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন সেই প্রত্যয়ন পত্র ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৬০ টাকা তিনি হাটগোপালপুরের এনআরবিসি শাখায় জমা দিয়েছেন। তার এই প্রত্যয়ন মোতাবেক তিনি ১০৭ জনের প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৫২৭১ টাকা করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে হিসাব করলে পাওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে পদ্মাকর ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরুখ আহমেদ আকাশের সাথে কথা বললে সে বলে যে আমি সবার টাকা দিয়ে দিয়েছি কেউ আমার কাছে কোন টাকা পাবে না। যদি ইউনিয়নে কেউ টাকা পেয়ে থাকে তাহলে সেটা চেয়ারম্যান দেবে আমি নয়। আমার এই বিষয়টা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া আক্তার চৌধুরী এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফিরোজা বেগম অবগত আছেন। শুধু তাই নয় ঝিনাইদহ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দুইজন অবগত আছে।
এই প্রসঙ্গে উক্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের সাথে কথা বললে সে বলে যে আমি সব টাকা দিয়ে দিয়েছি আমার কাছে কেউ কোন টাকা পাবে না। টাকা যদি তারা না পেতো তাহলে আমার কাছে কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানাত কিন্তু আমি কোন অভিযোগ পাইনি। ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পর আমি আর পরিষদে বসতে পারিনি।
এই প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সী ফিরোজা বেগমের সাথে কথা বললে সে বলে যে সে তো আমাকে প্রত্যয়ন দিয়েছে এবং সেই প্রত্যয়নে সে সব টাকা ভুক্তভোগীদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারছি যে ভুক্তভোগীরা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পায়নি। যাতে ভুক্তভোগীরা অর্থ ফেরত পায় এবং এই অর্থ আত্মসাৎ কারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় আমি সেই কাজ করব।
শাহরুখ আহমেদ আকাশ বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।