• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]

গ্রামীণ নারীর অদৃশ্য শ্রম, অর্থনীতির দৃশ্যমান শক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট: / ২ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। দিবসটি কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে নারীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে গ্রামীণ নারীর অবদান কতটা স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা পর্যালোচনারও সময়। একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় এবং যাদের শ্রমে অর্থনীতির ভিত শক্ত হয়, তারাও যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার পান। বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা সেই উন্নয়নযাত্রার অন্যতম প্রধান শক্তি। অথচ তাদের শ্রম, দক্ষতা ও অবদান অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যায় অগোচরে।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত ৬২/১৩৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের স্বীকৃতি দেয়। ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, গ্রামীণ নারীর উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কোনো দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বাংলার গ্রামীণ জীবনের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই একজন নারী দিনের কাজ শুরু করেন। ঘরের কাজ সামলানো, সন্তানদের দেখাশোনা, গবাদিপশুর যত্ন নেওয়া, বীজ সংরক্ষণ, জমিতে কাজ করা, ফসল সংগ্রহ, হাঁস মুরগি পালন কিংবা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সব ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। অনেক নারী পরিবারের খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের ব্যবস্থাও করেন। কিন্তু তাদের এই শ্রমের বড় অংশ পারিবারিক দায়িত্বের আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে। অর্থনীতির প্রচলিত হিসাবে কাজের স্বীকৃতি না থাকায় তাদের অবদানও যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না।

 

নারীর শ্রমে সমৃদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি
বিশ্বের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে কৃষি খাতে প্রায় ৯১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন প্রায় ৩৬ কোটি ৩০ লাখ। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক নারী কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের জীবনসংগ্রাম, খাদ্যের জোগান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

 

ব্যর্থতা থেকে বিশ্বজয়, জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে সফল ৫ তারকা
বাংলাদেশের বাস্তবতাও একই বার্তা দেয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনভিত্তিক কাজে নিয়োজিত নারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ। একই ধরনের কাজে নিয়োজিত পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়েও বেশি। ধান রোপণ, সবজি চাষ, মাছ চাষ, হাঁস মুরগি পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত অবদান সত্ত্বেও নারী কৃষকরা কতটা স্বীকৃতি পাচ্ছেন? অনেক নারী কৃষিকাজে নিয়মিত শ্রম দিলেও সরকারি কৃষক তালিকায় তাদের নাম থাকে না। ফলে কৃষি কার্ড, সরকারি প্রণোদনা, উন্নত বীজ, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়েন। অথচ যারা উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাদের বাদ দিয়ে কৃষির আধুনিকায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা কঠিন।এখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। কৃষিকাজকে শুধু জমি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বীজ নির্বাচন, ফসলের পরিচর্যা, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণও কৃষি অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব কাজে নারীর শ্রম ও দক্ষতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। নারী কৃষককে পরিবারের সহায়তাকারী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

 

সম্পদের অধিকার ও মজুরির বৈষম্য
গ্রামীণ নারীর অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো সম্পদের ওপর সীমিত অধিকার। জমির মালিকানা না থাকলে অনেক নারী কৃষিঋণ গ্রহণ করতে পারেন না। ঋণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি, সেচব্যবস্থা কিংবা মানসম্মত কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সংকুচিত হয়। অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা আবার পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে। এভাবে বৈষম্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলতে থাকে।

বাংলাদেশে কৃষিজমির একক বা যৌথ মালিকানায় নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তরাধিকার সম্পদ প্রাপ্তিতে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা এবং প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে এসব বাধা দূর করা অপরিহার্য।মজুরির ক্ষেত্রেও বৈষম্য উদ্বেগজনক। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, কৃষি, মৎস্য ও বন খাতে কাজ করা গ্রামীণ নারীর গড় মাসিক আয় ৮ হাজার ৩০১ টাকা, যেখানে পুরুষের গড় আয় ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা। একই ধরনের পরিশ্রমের পরও নারীর আয় কম হওয়ার পেছনে রয়েছে পেশাগত বিভাজন, দরকষাকষির সীমিত ক্ষমতা এবং সামাজিক বৈষম্য। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য পারিশ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

নারীর কাজের আরেকটি বড় অংশ অবৈতনিক। পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যা, রান্নাবান্না, সন্তান লালনপালন এবং বয়স্কদের দেখাশোনার মতো কাজ অর্থনীতিকে সচল রাখলেও এসব শ্রমের আর্থিক মূল্য সাধারণত নির্ধারিত হয় না। ফলে নারী দিনের অধিকাংশ সময় কাজে ব্যয় করেও নিজের জন্য আয়, বিশ্রাম কিংবা দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পান না। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অবৈতনিক পরিচর্যামূলক কাজের অর্থনৈতিক গুরুত্ব জাতীয় পর্যায়ে স্বীকার করা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে গ্রামীণ নারী
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাওর ও চরাঞ্চল পর্যন্ত গ্রামীণ নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব মোকাবিলা করছেন। খরা, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত তাদের জীবন ও জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় জনপদে লবণাক্ততা ও দুর্যোগ কৃষি, পানীয় জল এবং পারিবারিক জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এসব পরিস্থিতিতে নারীদেরই অনেক সময় পরিবারের খাদ্য, পানি ও আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হয়।

তবে গ্রামীণ নারীকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাঁরা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। লবণসহিষ্ণু ফসল চাষ, বীজ সংরক্ষণ, বাড়ির আঙিনায় সবজি উৎপাদন, হাঁস মুরগি পালন এবং বিকল্প জীবিকার উদ্যোগের মাধ্যমে তারা পরিবারকে টিকিয়ে রাখছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞান জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তাই জলবায়ু অভিযোজনের প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগানোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি, বাজার ও প্রয়োজনীয় উপকরণের সুযোগও তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগের সময় নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পেতে হবে।

 

গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ কৃষির বাইরেও বিস্তৃত। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি, মৎস্যসম্পদভিত্তিক উদ্যোগ, স্থানীয় পণ্যের বিপণন এবং পর্যটনভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগে নারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। গ্রামীণ ও কমিউনিটি পর্যটন এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাবার, লোকজ সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কারুশিল্প ও স্থানীয় জীবনধারার বৈচিত্র্য। এসব সম্পদকে কেন্দ্র করে নারীদের পরিচালনায় স্থানীয় খাবারের উদ্যোগ, হোমস্টে, হস্তশিল্প বিক্রয়, পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী রান্নার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পণ্যের বিপণন গড়ে তোলা সম্ভব। সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত কমিউনিটি পর্যটন স্থানীয় নারীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের জন্য প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, সহজ ঋণ, ডিজিটাল বিপণন এবং পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন জরুরি।

এখানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য উৎপাদন, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার প্রশিক্ষণ গ্রামীণ নারীদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে নারীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী থাকবেন না, বরং নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, গ্রামীণ নারীদের সংগঠিত করা, সঞ্চয় ও ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ভারতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগের মতো অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশও শিক্ষা নিতে পারে। সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা উৎপাদন খরচ কমাতে, পণ্যের মান উন্নত করতে এবং সম্মিলিতভাবে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।

প্রয়োজন কার্যকর নীতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমত, কৃষিকাজে নিয়োজিত নারীদের যথাযথভাবে কৃষক হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। তাদের কৃষি কার্ড, প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জমির মালিকানা ও উত্তরাধিকার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, সহজ শর্তে ঋণ, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারসংযোগ বাড়াতে হবে।

 

একই সঙ্গে গ্রামীণ নারীর শিক্ষার সুযোগ, কারিগরি দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। নারীর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়, প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থান কিংবা উদ্যোগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। পরিবার ও সমাজকে বুঝতে হবে, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয়; বরং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। একজন নারী নিজের আয় ও সম্পদের ওপর অধিকার পেলে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি দেশের অগ্রগতি শুধু বড় অবকাঠামো, শিল্পায়ন কিংবা শহরের উন্নয়ন দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সেই অগ্রগতির প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হয় গ্রামের মানুষের জীবনমান, সুযোগ ও অধিকার দিয়ে। যে নারী ভোরে পরিবারের কাজ শুরু করেন, দিনের বড় অংশ কৃষি ও উৎপাদনে ব্যয় করেন এবং সন্ধ্যায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, তার শ্রমের স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

 

গ্রামীণ নারীকে আর অবহেলিত শ্রমশক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাকে দেখতে হবে কৃষক, উদ্যোক্তা, দক্ষ কর্মী, পরিবেশের রক্ষক এবং উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে। তার হাতে সম্পদের অধিকার, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, ন্যায্য মজুরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তুলে দিতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, দারিদ্র্য কমবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমাজ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।গ্রামের নারীকে এগিয়ে নেওয়া মানে শুধু নারীর উন্নয়ন নয়, বরং একটি সমতাভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ