• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
মদন পৌরসভা দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে মির্জা কবির আহমেদ, চাইলেন সকলের দোয়া ও সমর্থন গলাচিপা – দশমিনার খাদ্য নিয়ন্ত্রণক মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই সদস্য গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার শ্রীপুরের দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজে’আনোয়ারা খাতুন ছাত্রী নিবাস’ উদ্বোধন ঝিনাইদহে ভিডব্লিউবি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মহেশপুরে শ্বশুরের কুড়ালের আঘাতে জামাই শশুর গ্রেপ্তার নিহত‌ নাটোর বড়াইগ্রামে নিহত ১৪, এক যুগ আগে একই দিনে মৃত্যু হয় ৩৫ জনের দৈনিক মহেশপুরে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন গ্রেফতার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ১৩ জন মাদক সেবনকারী কে কার দন্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান 

ধর্মের মুখোশে রাজতান্ত্রিক বর্বরতা—সৌদি শাসকদের জবাবদিহি চাই!

রিপোর্টারের নাম / ১১ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

ধর্মের মুখোশে রাজতান্ত্রিক বর্বরতা—সৌদি শাসকদের জবাবদিহি চাই

কাইয়ুম শিকদার বাম কমিউনিস্ট কর্মী

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা এবং মৃত্যুর আগে একজন নারীর বাঁচার আকুল আবেদনসংবলিত দৃশ্য দেখে গভীর ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি। অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার এবং বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে যথাযথ কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সৌদি রাজতন্ত্রের কাছে আমার প্রশ্ন—যে রাষ্ট্র পবিত্র ধর্মীয় স্থানের রক্ষক হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে, সেই রাষ্ট্রে মানুষের জীবন, নারীর মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের মূল্য কোথায়? একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানুষের শেষ মুহূর্তের আকুতি যদি ক্ষমতাবানদের বিবেককে নাড়া না দেয়, তবে সেই শাসনের মানবিকতা কোথায়?

আমাদের আপত্তি ইসলাম ধর্মের সাধারণ অনুসারীদের বিরুদ্ধে নয়; আমাদের প্রতিবাদ ধর্মকে ক্ষমতা, অর্থ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের হাতিয়ার বানানো ধর্মব্যবসায়ী এবং স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। মক্কা-মদিনার পবিত্রতা কোনো রাজপরিবারের অন্যায়ের বৈধতা দিতে পারে না। ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করলেই কোনো শাসক ন্যায়বিচারের ঊর্ধ্বে উঠে যায় না।

মাওবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারিত হয় শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তার আচরণ দিয়ে—রাজপ্রাসাদের জৌলুস, ধর্মীয় প্রচার কিংবা পবিত্র স্থানের উপস্থিতি দিয়ে নয়। যে ব্যবস্থায় ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আর সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রশ্নে অসহায় হয়ে পড়ে, সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জরুরি।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা জানতে চাই—এই দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সহায়তা ও বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা কী ছিল? দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ উত্তর চাই।

ধর্মের নামে ব্যবসা নয়, মানুষের মুক্তি চাই। রাজতান্ত্রিক দম্ভ নয়, ন্যায়বিচার চাই। মৃত্যুদণ্ডের নামে অমানবিকতা নয়, মানুষের মর্যাদা চাই।

সৌদি আরবে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, কূটনৈতিক ব্যর্থতা থাকলে তার জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

শোষিত মানুষের মুক্তিই আমাদের রাজনীতি। ধর্মের মুখোশে শোষণের বিরুদ্ধে লাল সালাম।

(মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় )


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ